ই-লার্নিং কি ? শ্রেণীকক্ষ নাকি শিক্ষার্থী ?

0

স্কুল বলতেই সারি সারি শ্রেণীকক্ষ, ব্ল্যাকবোর্ড এবং এক রুম ভর্তি শিক্ষার্থী  আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে। কিন্তু বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে প্রযুক্তির যে বিকাশ তা ছুঁয়ে গিয়েছে শিক্ষা-ব্যবস্থাকেও আর তাতে করে আমাদের এই চিরপরিচিত রূপটা পালটে গিয়েছে অনেকখানি।

ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থাকে বলা হয় ইলেকট্রনিক লার্নিং বা সংক্ষেপে ই-লার্নিং। রেডিও থেকে মোবাইল অ্যাপস পর্যন্ত সবই ই-লার্নিংয়ের অন্তর্ভুক্ত। ই-লার্নিং বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অনেক জনপ্রিয়। ই-লার্নিং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী তার প্রয়োজন মত একই  ডিজিটাল কনটেন্ট  বা ভিডিও ক্লিপ, ইচ্ছেমতো বারবার ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে। ভিডিও কনফারেন্সিং আবিষ্কারের পরে এখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে আলাদা আলাদা জায়গায় থেকেও সরাসরি কথা বলতে পারছে। সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে স্মার্টফোনভিত্তিক অ্যাপস। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত আগামী এক দশক শিক্ষাক্ষেত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য করবে মোবাইল অ্যাপস।

একসময় ফ্লপি ডিক্স বা সিডি দিয়েও শিক্ষা উপকরণের আদান-প্রদান হয়েছে। সেটাকেও ই-লার্নিং বলা চলে। আজকাল ইন্টারনেটের বদৌলতে ই-লার্নিং ব্যাপারটা সবার কাছেই সুপরিচিত এবং এই ইন্টারনেট ই-লার্নিং এর সবচাইতে বড় অনুষঙ্গ।

ই-লার্নিং এর সবচাইতে মজার ব্যাপারটি হলো এই যে ক্লাস করার জন্য আমাকে ক্লাসরুমে থাকতে হবেনা। ইচ্ছে হলেই বাসার বিছানায় শুয়ে দেখে নিচ্ছি গেম থিওরির বর্ননা,তাও আবার পৃথিবী-খ্যাত কোন প্রফেসরের কাছ থেকে।

শিক্ষার এই আধুনিকীকরণ শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকেই। কিন্তু সত্যি বলতে কি কম্পিউটার এসে যে বিপ্লব শুরু করেছিল সেই বিপ্লবের সঠিক চিত্রটা বোঝা গিয়েছে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটের ছড়িয়ে পরার পর। আজকের এই ই-লার্নিং ব্যবস্থা পুরোটাই দাঁড়িয়ে আছে ইন্টারনেটের উপর ভিত্তি করে। শুধু কি তাই, এখনকার দিনে আর কম্পিউটার লাগছে না যদি হাতে একটা স্মার্ট-ফোন থাকে ইন্টারনেট কানেকশন সহ। প্রযুক্তির এই যুগে শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষা প্রদানটাও তুলনামূলক অনেক সহজ কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু ইউটিউবেই যে কত হাজার হাজার বিষয় শেখার ইন্টার-একটিভ ভিডিও আছে তা বলে শেষ করা যাবে না। আর নতুন কোর্স বা নতুন ভিডিওর খবর জানাতে সোশ্যাল মিডিয়া, ইনস্ট্যান্ট মেসেঞ্জার – গুলো তো আছেই। কাজেই পিছিয়ে পরার প্রশ্নই ওঠে না।

ই-লার্নিং এর কোর্সগুলোর আরেকটা বড় সুবিধা হল এরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলে । শিক্ষা বা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রতিদিনই নিত্য নতুন পরিবর্তন ঘটেই চলছে আর তার ছোঁয়া ঠিকই পাওয়া যায় ই-লার্নিং এ। এছাড়াও যে বিষয়ে শিখছি তার একেবারে নতুন থেকে নতুনতর বিভিন্ন দিকের ব্যাপারেও জানা যায় ই-লার্নিং এর মাধ্যমে। এ কারণে আজকাল কিন্তু বিদেশে বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানিগুলো নিজেদের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্যে ই-লার্নিং পন্থাই ব্যবহার করছে।

সম্পূর্ণ ফ্রি ই-লার্নিং কোর্স যেমন আছে তেমনি বাণিজ্যিক ই-লার্নিং কোর্স ও রয়েছে। আবার অনেক ই-লার্নিং কোর্স আছে শিখতে কোন খরচ লাগবে না কিন্তু সার্টিফিকেট নিতে অল্প কিছু খরচ বহন করতে হয়। যে ভাবেই হোক না কেন, এমনকি বাণিজ্যিক ই-লার্নিং কোর্সগুলোও আমাদের আর দশটা সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় অনেক কম খরচের। আর এতে করে শিক্ষা, যা কিনা একটি মৌলিক অধিকার, আজ যারা অবহেলিত-বঞ্চিত তাদের সহ সকলের নিকটই সম্ভাবনার এক নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে।

বাড়ীতে বসেই শিখে নিন ( ভিডিওপিডিয়া )

Comment

comments

Comments are closed.