কালার বার এবং এর ব্যবহার প্রণালী

0

কালার বার হলো কৃত্রিম ইলেকট্রিক সিগন্যাল যা তৈরি করা যায় ক্যামেরায় অথবা কোন পোস্ট প্রোডাকশন ইকুইপমেন্টের সাহায্যে। পোস্ট প্রোডাকশনের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেফারেন্সের জন্য একটি ভিডিও টেপের শুরুতেই কালার বার দেওয়া হয়। একাধিক ক্যামেরা শটে দুটি ক্যামেরার আউটপুট ম্যাচিং ও ভিডিও মনিটর সেটাপের ক্ষেত্রেও কালার বার ব্যবহার করা হয়।
সামনে এগুনোর আগে বলে নেওয়া ভাল যে, কম্পিউটার মনিটর আসলে ভিডিও মনিটর ও টিভির থেকে আলাদা। আপনি কম্পিউটার মনিটরে যে ছবি দেখেন, তা একটি ভিডিও মনিটরে একই মানের হবে না। শুধু তাই নয়, আপনি যদি একটি কম্পিউটার মনিটরে গ্রাফিক্স তৈরি করেন, সেটি একটি ভিডিও মনিটরে একই মানে দেখাবে না। শুধুমাত্র সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে অ্যাডজাস্ট করা ভিডিও মনিটরেই গ্রাফিক্সটির সত্যিকারের কালার দেখা যাবে।
এখানে দেওয়া গ্রাফিক্সটি শুধুমাত্র আপনাদের দেখার সুবিধার্থে দেওয়া হয়েছে। সত্যিকারের কালার বার ব্যবহার করতে হলে আপনাকে একটি ক্যামেরা ব্যবহার করে, তা দিয়ে একটি ভিডিও মনিটর অথবা টিভিতে কালার বার এনে দেখতে হবে।

ভিডিও মনিটর অথবা টিভি সেটাপ
১. কয়েক মিনিটের জন্য আপনার মনিটরটিকে চালু করে রেখে দিন, এতে মনিটরটি একটু গরম হবে।
২. রুমের লাইট হাল্কা করে দিন ও মনিটরে কোন ধরনের আলোর প্রতিবিম্ব যেন না পড়তে পারে তা নিশ্চিত করুন।
৩. এবার মনিটরে কালার বার আনুন, এই কাজটি আপনি ক্যামেরা অথবা আপনার এডিটিং সিস্টেমের হাউস বার ব্যবহার করেও করতে পারেন।
৪. কনট্রাস্টকে ঠিক মাঝামাঝি পয়েন্টে সেট করুন।
৫. ক্রোমা বা কালারকে একেবারে নিচে নামিয়ে আনুন, যতক্ষণ না এটি সাদা কালো রুপ নেয়।

Color-bar-02

৬. চার্টের ডান দিকে মাঝামাঝি জায়গায় থাকা ৩.৫, ৭.৫ এবং ১১.৫ লেখা ন্যারো বারগুলোর দিকে লক্ষ্য করুন। এগুলো হলো প্লাগবার, যা আসলে ছবির লাইনআপ তৈরির যন্ত্রাংশ হিসেবে পরিচিত।
এবার মাঝখানের ৭.৫ ইউনিটটি যতক্ষণ না ভালভাবে দেখা যাচ্ছে ততক্ষণ ব্রাইটনেস এডজাস্ট করুন। এক্ষেত্রে ডানদিকের ১১.৫ ইউনিটের বারটি খুব অল্পই দেখা যাবে। যদি এটি না দেখা যায়, তাহলে ব্রাইটনেস বাড়িয়ে দিন যতক্ষণ না এটি দেখা যায়।
এতে ৭.৫ ইউনিটটি ভিডিওতে দেখানো বারের মতোই কালো হয়ে যাবে, এক্ষেত্রে বাম পাশের ৩.৫ ইউনিট ও মাঝের ৭.৫ ইউনিটের মধ্যে আপনি কোন পার্থক্য খুজে পাবেন না। এদের মধ্যে দুটি অংশকে আলাদা করার মতো কোন দাগও থাকবে না। আপনি শুধু ১১.৫ ও ৭.৫ লাইনের মধ্যে পার্থক্য খুজে পাবেন। (আপনার ভিডিও ক্যামেরাতে সাদাকালো মোড সেট করতে এই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।)
৭. পরের ধাপটি হলো কনট্রাস্ট কন্ট্রোল, এতে হোয়াইট লেভেল একেবারে সঠিক হবে। এমনটি করতে হলে, কনট্রাস্টকে একেবারে বাড়িয়ে দিন। এক্ষেত্রে সাদা ১০০ ইউনিটের বারটি একেবারে জ্বলজ্বল করবে। এবার সাদা বারটি দেখতে না পাওয়া পর্যন্ত হোয়াইটনেস কমাতে থাকুন। নিচের ছবিটি দেখাচ্ছে, এটি দেখতে ঠিক কিরকম হবে।

চিত্র: কোন রঙ ছাড়া একটি সঠিক এনটিএসসি (NTSC)কালার বার। ## নিচের ছবিটি সঠিক নয়, এটি একটি ইনকারেক্ট কালার বার।

 

চিত্র: কোন রঙ ছাড়া একটি ভুল এনটিএসসি (NTSC) কালার বার। ওপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি মনিটর যার ব্ল্যাক লেভেল অথবা ব্রাইটনেস খুব বেশি। যেখানে তিনটি প্লাগবারের কেবল ১১.৫ বারটি দেখা যাওয়ার কথা।

রঙিন কালার বার:
প্রথমে হিউ ( hue) অ্যাডজাস্টের সর্টকাট: সামান্য অভিজ্ঞতা থাকলেই আপনি পরবর্তি ধাপদুটো স্কিপ করে যেতে পারেন। শুধুমাত্র হলুদ ও ম্যাজেন্ডা আইবলিংয়ের মাধ্যমে। হলুদ রঙটি হতে হবে লেবুর মতো হলুদ। এতে কোনভাবেই কমলা অথবা সবুজ রঙের ছোয়া থাকতে পারবে না। আর ম্যাজেন্ডা মোটেও লাল অথবা পারপেল কালারের হতে পারবে না।
অন্য উপায়:
অনেক প্রফেশনাল মনিটরেই শুধু নীল কালারের সুইচ থাকে। যদি আপনার মনিটর সেরকম হয়, তবে এটি চালু করুন। আর যদি আপনার মনিটরটিতে নীলের সুইচ না থাকে, তাহলে আপনি একটি নীল লাইটনিং জেল ব্যবহার করতে পারেন। এটিকে আপনার চোখের সামনে ধরে রাখুন আর মনিটরের দিকে তাকান। এবার আপনি যদি লাল, সবুজ অথবা হলুদের কোন একটি রঙ দেখতে পান, সেক্ষেত্রে ব্লু -ইফেক্ট বাড়াতে চোখের সামনে জেলের পরিমাণ ডবল করে দিন।

## নীল রঙের সুইচ অথবা ব্লু-জেল ব্যবহার করে, আপনি ছবি থেকে লাল ও সবুজ রঙ সরিয়ে ফেলেছেন। এবার শুধু নীল রঙ থাকবে। যদি টিন্ট এবং কালার সঠিক হয়, তাহলে আপনি একই উজ্জলতার কয়েকটি বার দেখতে পাবেন। এভাবেই একটু অভিজ্ঞতা ব্যবহার করেই আপনি আই বলের এই ধাপটি শেষ করতে পারবেন।
৮. নীল সু্ইচ অন করে অথবা আপনার চোখের সামনে ব্লু-জেল ধরে ক্রোমা অথবা কালার বাড়াতে থাকুন। যতক্ষণ না আপনার বামের গ্রে বার ও ডানের নীল বারটি একই উজ্বলতার হয়।ট্রিকটি হলো, আপনার গ্রে অথবা নীল বারের যে সাব বার রয়েছে তা মিলিয়ে নেওয়া।
৯. হিউ (hue)কন্ট্রোল অ্যাডজ্যাস্ট করুন, যতক্ষণ না নীলচে-সবুজ বার ও ম্যাজেন্ডা বার একই উজ্বলতার হয়।এটিকেও আপনি সাব বার দিয়ে ম্যাচ করিয়ে নিতে পারেন।এক্ষেত্রে গ্রে, নীল, নীলচে-সবুজ এবং ম্যাজেন্ডা একই উজ্বলতার হতে হবে। আর হলুদ,সবুজ ও লাল একেবারে কালো দেখাবে। ঠিক নিচের ডায়াগ্রামের মতো।

Color-bar-04

এটি রঙিন হলে যেরকম দেখাবে-

Color-bar-05

এখন আপনার সামনে একটি সঠিক মানে অ্যাডজাস্ট করা মনিটর রয়েছে। তবে যদি সঠিক রঙ দেখতে না পান, তাহলে আপনাকে ক্রোমা ও হিউ আরো অ্যাডজাস্ট করে নিতে হবে। এজন্যই ইঞ্জিনিয়াররা বলেন, এনটিএসসি বলতে বোঝায় নেভার টোয়াইস দ্য সেম কালার, অর্থাৎ একই রঙ দুবার নয়।

চিত্র: একটি সঠিক এনটিএসসি কালার বার।

একটি ওয়েভফ্রম মনিটরে একই কালার বার যেরকম দেখায়-

Color-bar-07

মনিটরটি সেটাপ করে নেওয়ার পর এটিকে এভাবেই রেখে দিন। যদি আপনার কাছে ওয়েভফ্রম অথবা ভেক্টরস্কেল না থাকে। এটি একমাত্র যন্ত্র যেখানে আপনি দেখতে পাবেন যে,আপনার ভিডিওটি কতটা নিখুঁত। এটি আপনার ক্যামেরা ভিউফাইন্ডারের মতই সঠিক।

Comment

comments

Comments are closed.