শিল্প কলার নানান মাধ্যমের মধ্যে গ্রাফিক্স ডিজাইন

0

মানব সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই মানুষ তার প্রয়োজনের তাগিদে দৈনন্দিন কাজকর্মের সঙ্গে উপলব্দি করছে সত্য ও সুন্দরের উপাসনা করার, আর এই মানব সভ্যতার সবচাইতে পুরাতন সৃষ্টি হচ্ছে শিল্প কলা। সভ্যতার অন্যসব গুনাগুন থেকে যাকে কিছুতেই আলাদা করা যায় না।

Shilpokola মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো মাটিতে,দেয়ালে,কাগজে, এমনকি বই পুস্তুকে দাগ কাটা বা রেখা টানা ।এই দাগ কাটা বা রেখা টানার স্বভাবই মানুষরে হৃদয় গভীরে লুকিয়ে থাকা শৈল্পিক অনুভুতিকে জাগ্রত করে।জাগ্রত করে রুপের কিংবা সৌন্দর্যের অনুভুতিকেও।খূ: পূ: ৩০০০, এই সময়কালের কোন এক সময় মানব সন্তানের কোন একজন যত্র-তত্র পড়ে থাকা হাড় কিংবা নল খাগড়ার টুকরো দিয়ে ভেজা নরম মাটিতে একান্ত মনের বশে দাগ কাটতে থাকে। সেই দাগ কাটার মধ্যদিয়েই মানব সভ্যতার বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে। অবাক বিস্ময়ে পৃথিবীর মানুষ তাকিয়ে দেখে সেই হিজিবিজি দাগ বা রেখার মধ্যে জন্ম নিয়েছে আজকের উন্নত বিশ্ব আর সভ্য সমাজের অহংকার গুহাকৃতির অলেৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ ধরনের চিহ্ণ। যা পরবর্তী সময়ে “কিউনিফর্ম” হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এই কিউনিফর্মই লিখন পদ্ধতির আদিরূপ। ছবি আকাঁর শুরু এমন ধরনের দাগ কাটার মধ্যে দিয়ে।খৃ: পূ: ১০.০০০, যাকে শিল্পের শুভলগ্ন বা জন্মলগ্ন বলে গন্য করা হয়। এই সময় ম্যাগভেলিনিয়াম গুহাবাসী মানুষরে গুহাগাত্রে চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমেই শুরু হয় চিত্র শিল্পের তথা শিল্প কলার সমস্ত পদচারনা।

আদিম যুগের গুহাবাসী মানুষ অন্ধকার গুহা থেকে বেরিয়ে যেদিন উন্মুক্ত পরিবেশে বসতি স্থাপন করে, প্রথম বীজ বপন করা তাদের রোপিত বীজ থেকে নরম তুলতুলে কচি চারা মাটির বুক চিরে যেদিন মুক্ত অলোয় আত্নপ্রকাশ করে, যেদনি তারা মাটির নিচের মহামুল্যবান রত্ন ভান্ডারের রহস্য উন্মোচন করে, পৃথিবীর প্রতিকুল কৌশল যেদিন তারা আয়ত্ত করতে উদ্যোগী হয়, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যে দিন যোগাযোগ স্থাপনে সচেষ্ট হয়, প্রকৃতপক্ষে সেদিন থেকেই আধুনিক সভ্যতার সাথে গুহাগাত্রে শিল্পকলার চর্চার যে প্রচলন হয়েছিল তার অপ্রতিরোধ্য গতি বিশ্বের সর্বত্র অব্যাহত থাকে। বিশ্বের অনান্য অঞ্চলের মত ক্ষুদ্র এবং হত দরিদ্র বাংলাদেশেও শিল্প কলার গতি অব্যাহত রয়েছে। অব্যাহত গতিধারার অগ্রসরমান শিল্পের এই জগতটিকে বোধ করি একমাত্র জগত যার জন্য বাংলাদেশ আজ গর্ব করতে পারে।

শিল্প কি? ভাববাদী পন্ডিতদের মতে “মনোরম আকার দানের প্রচেষ্টা” এদিকে শিল্পকে বাস্তববাদী রস ও ভিন্ন অর্থে দাড় করানো| শিল্প তা কাজে সমাজের সদস্য হিসাবে একজনের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। আমরা চিন্তা জগতের বিস্তৃতির জায়গা করে দিয়ে বলতে পারি, শিল্প সৌন্দর্যানুভুতির প্রকাশ হতে পারে। আবার ব্যক্তির সামাজিক অভিজ্ঞতার অভিজ্ঞান ও হতে পারে।

শিল্প কলার নানান মাধ্যমের মধ্যে গ্রাফিক্স ডিজাইন হল আর্ট বা কলার অন্যতম একটি শাখা| ডিজাইনার তার কাজের মাধ্যমে শিল্প ব্যবহারকারীর মধ্যে একটি ভাল প্রভাব ফেলতে পারেন। যেটি সেই ব্যবহারকারীর মনে বিশেষ দাগ কাটে। তাই গ্রাফিক্স ডিজাইনার তিনিই যিনি গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বেশ কিছু রং, টাইপস ইমেজ এবং এ্যানিমেশন ব্যবহারের মাধ্যমে তার চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হন। এটার আউটপুট ডিজিটাল, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া সহ নানান মাধ্যমে হতে পারে।

Shilpo Kola

শিল্পকলার গ্রাফিক্স জিজাইন হল এমন একটি শাখা যেখানে কাজের কোন সীমা পরিসীমা নেই। কি হয়না এমাধ্যমে। Paper Ad, Billboard, Hording, Pak Design, Foil Design, Product Animation, Book Cover, Illustration. Web Design, Set Design, 2D 3D Animation.

বাংলাদেশেরে প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে চারু ও কারু কলা বিভাগ রয়েছে। এছাড়াও দেশের প্রায় সব স্কুল ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত ড্রইং বাধ্যতামূলক। আমার মতে একজন সৃজনশীল মানুষই পারে নিজ উদ্যোগে শিল্প চর্চা করতে এর উদাহরনও রয়েছে। তার পরও কথা থেকে যায়, যে কোন ডিজাইনের ক্ষেত্রে এর কম্পোজিশান, ফর্ম, কালার, পার্সপেকটিভ, ডিজাইনের ধারনা থাকাটা প্রয়োজন। পাশাপশি কোন প্রডাক্ট বা যে জিনিসের ডিজাইন করতে হবে সেই সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা থাকতে হবে। ধরা যেতে পারে কবিতার ইলাসট্রেশন, Foil, TV-CG, Programme Titel, Product Payoff Line, Music GB সার্বিক বিষয়ে একজন ডিজাইনারের যদি সামান্য ধারনা না থাকে তাহলে তার করা ডিজাইন ভাল হওয়া যথেষ্ট কঠিন। আর এ জন্য প্রয়োজন অবশ্যই কোন প্রতিষ্ঠান থেকে শিল্প চর্চার প্রাথমিক ধারনা। তাহলে একজন সৃষ্ঠিশীল মানুষের কাছ থেকে আমরা একটি ভাল, দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন পাব।

আমাদের দেশে এখন অনেক ভাল ভাল ডিজাইনার রয়েছেন যাদের কাজ আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে দেখতে পাই এবং সকলের কাছে তাদের কাজ প্রসংশীত। কিন্তু এরা কোন এক সময়ে কিছু একটার অভাব বোধ করেন যার প্রভাব তার কাজে পরে| তাদের করা সব ডিজাইন ঘুরে ফিরে মনের ভুলে একই রকম হয়ে যায়। এই শিল্পীরা যদি ডিজাইনের উপরে প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিল্প শিক্ষা গ্রহন করতেন তাহলে অবশ্যই আমরা আরো ভাল ভাল ডিজাইন পেতে পারতাম।

স্বাভাবিকভাবেই লোকে জানতে চায় একজন বড় শিল্পী কোন কলেজ বা ইনস্টিটিউট থেকে পাশ করেছেন। তাতে শিল্পী বা কলেজ উভয়েরই মর্যাদা বাড়ে। ঠিক এরকমই এক ঘটনা ঘটেছিল ১৯৫৫ সালে চিত্র শিল্পী এ্যান্ড্র ওয়েথকে হার্ভাডের প্রেসিডেন্ট ন্যাথান প্যশে“ড.অব ফাইন আর্টস” সম্মানে ভুষিত করেন। তিনি কথার ছলে হাসতে হাসতে জিজ্ঞাস করেছিলেন আপনি কোন কলেজ থেকে পাশ করেছেন? “ওয়েথ হাসতে হাসতেই উত্তর দেন” আমি কোন কলেজে ঢুকিনি। এমনকি কখনও কোন স্কুলেও যাইনি।

এ্যাকাডেমিক্যালি তিনি কোন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেননি সত্যি, কিন্তু শিল্পগত ভাবে স্বীকার করতেই হবে যে তার বাবা এন.সি.ওয়েথই তার প্রথপ্রদর্শক ছিলেন। সুতরাং স্বীকার করতে হবে একজন ভাল ডিজাইনার হতে হলে অবশ্যই তাকে প্রথমে শিল্প মনা হতে হবে। শিল্পোকে বুঝতে হবে, ভালবাসতে হবে এবং সর্বপরি তাকে কোন স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে নুনতম ডিজাইন সম্পর্কে সাধারন জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

খালেদ মাহমুদ রাজন ফ্রিলেন্স আর্টিস্ট

খালেদ মাহমুদ রাজন ফ্রিলেন্স আর্টিস্ট

Comment

comments

Comments are closed.