ভিডিও ও টেলিভিশনের লাইটিং

0

লাইট সোর্স (Light Sources): সব ভিডিওই কোন না কোন ধরণের লাইটিং ব্যবহার করে। এটা হতে পারে প্রাকৃতিক লাইট আবার হতে পারে আর্টিফিসিয়াল লাইট। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো, ভিডিও ধারণের জন্য উপযুক্ত লাইটিং কন্ডিশনটি খুজে বের করা। প্রথমত আপনাকে প্রয়োজনীয় লাইটের ব্যবস্থা করতে হবে অথবা খুজে বের করতে হবে। আপনাকে এটি নিশ্চিত হতে হবে যে, আপনি যে লাইটে কাজ করছেন তা আপনার ব্যবহৃত ক্যামেরাটি ধরতে বা রেকর্ড করতে পারবে। আধুনিক ক্যামেরায় অনেক কম লাইটেও অনেক বেশি কনট্রাস্ট পাওয়া যায়। অর্থাৎ, এতে খুব কম আলোতেও ফটো শুট করা যায়। ধরুন, আপনার কাছে প্রয়োজনীয় লাইটের ব্যবস্থা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আপনাকে লাইটের উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং সেই লাইট ব্যবহার করে সবচেয়ে ভাল ছবিটি ধারণ করতে হবে। তবে, যদি আপনার সামনে এমন মুহুর্ত আসে যেখানে লাইটের সমস্যা রয়েছে, সেক্ষেত্রে আপনার ছবির রঙ ভাল আসবে না। এক্ষেত্রে ছবির কালার অনেকটাই খারাপ হয়ে যাবে। যদি সম্ভব হয়, এসব ক্ষেত্রে নিজে নিজেই লাইট সোর্স ঠিক করে নেওয়া উচিত। যখন আপনি শুটিং এর জন্য জায়গা পরিবর্তন করবেন, তখন মনে রাখতে হবে- আপনি কোন লাইট সোর্স ব্যবহার করছেন। আপনি যদি বাইরের কোন স্পট থেকে ঘরের ভেতরের কোন স্পটে যান তাহলে, আপনাকে আর্টিফিসিয়াল লাইট ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে লাইটের পরিমাণ একই দেখা গেলেও, ছবির কালারে পরিবর্তন দেখা যাবে। দুই জায়গার ছবি দুই কালারের হবে। এতে ছবি খারাপ হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে আপনাকে নতুন লাইট সোর্স অনুযায়ি ক্যামেরার হোয়াইট ব্যালান্স ঠিক করে নিতে হবে। তাহলে কালারে পরিবর্তন চোখে পড়বে না।

কনট্রাস্ট রেশিও (Contrast Ratio): কনট্রাস্ট রেশিও হলো ব্রাইটনেস আর ডার্কনেসের মধ্যকার পার্থক্য। কনট্রাস্ট রেশিও দিয়ে অতিমাত্রার আলো ও অতিমাত্রার অন্ধকারের মধ্যকার পার্থক্য বোঝানো হয়। এক্সট্রিম কনট্রাস্টের সঙ্গে ভিডিও কখনই মিল খাবে না। এমনকি অতিমাত্রার অন্ধকারের সঙ্গেও ভিডিও মিল খায় না। শুধু ভিডিও নয় ফিল্মও এই একই ধারায় চলে। ঠিক মানুষের চোখের মত। বেশি কনট্রাস্টের কারণে যা হবে- ছবির কিছু অংশ অনেক বেশি সাদা আসবে, আর কিছু অংশ হবে কালো। ফলে ছবির ডিটেইল খারাপ দেখাবে। আর এজন্যই আপনাকে লাইটের বিষয়ে খুব সতর্ক নজর রাখতে হবে।

contrast-ratio-01

ক্যামেরা মাউন্টেড লাইট (Camera-Mounted Lights): ছবি অথবা ভিডিও ধারনের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবহারকারিদের জন্য ক্যামেরা মাউন্টেড লাইট খুবই কার্যকর। এই লাইট ক্যামেরার ব্যাটারি থেকে পাওয়ার ব্যবহার করে। এটি আলাদা কোন পাওয়ার সোর্সের সঙ্গেও জুড়ে দেওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন, এই লাইট ক্যামেরার ব্যাটারি ব্যবহার করে তাই খুব অল্প সময়েই ক্যামেরার ব্যাটারি শেষ হয়ে যেতে পারে। এ ধরণের লাইট কখনই প্লিজিং ইফেক্ট তৈরি করে না। এটি একটি ব্লান্ট ইনস্ট্রুমেন্ট যা একটি নরমাল ক্যামেরা অ্যাকশানের জন্য সিনকে প্রস্তুত করতে সাহাজ্য করে। তবে এটি একটি সিম্পল ও প্রাকটিক্যাল সলিউশন।

নাইট মোড ভিডিও শুটিং (Night Mode Video Shooting): কিছু ক্যামেরায় নাইট মোড ভিডিও শুটিং এর সুবিধা থাকে। এটি আপনাকে অন্ধকারে রেকর্ড করার মতো সুবিধা দিয়ে থাকে। এ মোডটি ভিজ্যুয়াল লাইটের পরিবর্তে ইনফ্রারেড লাইট ব্যবহার করে। যখন আপনার কাছে অন্য কোন অপশন থাকবে না তখন এই নাইট মোড আপনাকে ভিডিও শুট করতে সাহায্য করবে। তবে এই মোডে শুট করা ভিডিওর কোয়ালিটি খারাপ হবে। তবে কোন স্পেশাল ইফেক্ট করা ভিডিওর ক্ষেত্রে আপনি এই মোড ব্যবহার করতে পারেন। ভিডিও ও টেলিভিশনের লাইটিং

Comment

comments

Comments are closed.