PAL, NTSC, SECAM কি

0

এনটিএসসি (NTSC)
এনটিএসসি একটি ভিডিও ফরমেট যা ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্ট্যান্ডার্ড ভিডিও ফরমেট হিসেবে গ্রহণ করে। তখন থেকেই যেকোন ভিডিও ও টেলিভিশনের ক্ষেত্রে এই ফরমেট ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি এখনও বেশ প্রচলিত একটি ফরমেট। এনটিএসসি বলতে মূলত বোঝায় ন্যাশনাল টেলিভিশন স্ট্যান্ডার্ড কমিটি। এই ফরমেটকে যুক্তরাষ্ট্রে টেলিভিশন ব্রডকাস্টের স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে অনুমোদন দিয়েছিল এফসিসি (FCC) অর্থাৎ ফেডারেল কমিউনেকেশন কমিশন।

এনটিএসসি (NTSC) নির্ভর করে একটি ৫২৫ লাইনের ওপর (525-line )। এটি ৬০ ফিল্ড অথবা ৩০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ড অনুপাতে ছবি দেখায় (60 fields/30 frames-per-second )। এ ফরমেটে ছবি অথবা ভিডিও দেখাতে হলে ৬০ হার্টজ (60Hz) ট্রান্সমিশন সিস্টেম প্রয়োজন হয়। এটি একটি ইন্টারল্যাস্ড সিস্টেম যেখানে প্রতিটি ফ্রেমকে ২৬২ লাইনের (262 lines) দুটি ফিল্ডে স্ক্যান করা হয়। যা পরে একটি ফ্রেম অথবা ভিডিও দেখানোর জন্য ৫২৫ স্ক্যান লাইনের (525- scan line ) সাহায্যে মিলিত হয়।

এই সিস্টেমটি বেশ ভালই কাজ করে, তবে যখন এই সিস্টেম প্রথম অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তখন রঙ্গিন টিভি অথবা ডিসপ্লে নিয়ে হিসাব করা হয়নি। ফলে ১৯৫০ সালে একটি উভয়সঙ্কট সৃষ্টি হয়। কিভাবে এনটিএসসিতে রঙ অন্তর্ভূক্ত করা যায়? তাও আবার বাজারে থাকা লাখ লাখ সাদাকালো টেলিভিশন নষ্ট না করেই। শেষপর্যন্ত ১৯৫৩ সালে এনটিএসসিতে রঙ অন্তর্ভুক্ত করার একটি প্রক্রিয়া অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে, এই ফরমেটে রঙ যুক্ত করার প্রক্রিয়া এর জন্য একটি দুর্বলতা। এই ফরমেটকে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলে থাকেন, নেভার টোয়াইস দ্য সেম কালার, অর্থাৎ একই রঙ দুবার নয়।

এনটিএসসি (NTSC) ভিডিও স্ট্যান্ডার্ড যুক্তরাষ্ট্রের অফিসিয়াল স্ট্যান্ডার্ড। এছাড়াও, কানাডা, মেক্সিকো, সেন্ট্রাল ও সাউথ অ্যামেরিকার কয়েকটি অংশ, জাপান, তাইওয়ান এবং কোরিয়াতেও এই ফরমেট ব্যবহার করা হয়।

পাল ( PAL )
বিশ্বব্যাপী অ্যানালগ টেলিভিশন ব্রডকাস্টিং এবং ভিডিও ডিসপ্লের জন্য পাল ( PAL ) একটি প্রভাবশালী ফরমেট। এটি নির্ভর করে ৬২৫ লাইনের (625 line) ওপর। এটি ৫০ ফিল্ড অথবা ২৫ ফ্রেম রেটে ছবি ও ভিডিও প্রদর্শণ করে (50 field/25 frames a second)। এ ফরমেটের জন্য প্রয়োজন হয় ৫০ হার্টজের সিস্টেম (50HZ)। এনটিএসসির (NTSC) মত পালের সিগন্যালও ইন্টারল্যাস্ড। অনেক বেশি স্ক্যান লাইন থাকার কারণে পাল ফরমেটের ছবি এনটিএসসি ফরমেটের ছবির চেয়ে ভাল হয়। এতে এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনের মধ্যকার কালারের তারতম্য কম হয়। তবে, পাল ফরমেটের একটি অসুবিধাও রয়েছে, এতে প্রতি সেকেন্ডে ফ্রেমের সংখ্যা কম হওয়ায়, অনেক সময় হাল্কা ফ্লিকার (Flicker) দেখা যায়। ঠিক প্রজেকশনের মাধ্যমে ছবি দেখতে গেলে যেরকমটি হয়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ব্রাজিল পালের ভিন্ন একটি ফরমেট ব্যবহার করে, সেটি হচ্ছে পাল-এম (PAL-M)। পাল-এম ৫২৫ লাইন অথবা ৬০ হার্টজের সিস্টেম ব্যবহার করে। পাল-এম আসলে উপযুক্ত সাদাকালো ফরমেটের ডিভাইসের ক্ষেত্রে। তবে, এনটিএসসি ফরমেটের ডিভাইসেও এটি ব্যবহার হয়।

বিশ্বব্যাপী পাল ফরমেটের আধিপত্যের কারণে এর একটি বিশেষ নাককরণ করা হয়েছে, একে বলা হয় পিস এট লাস্ট অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত শান্তি। যুক্তরাজ্য, জার্মানী, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি, চীন, ইন্ডিয়া, আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশ, এবং মধ্যপ্রাচ্যে পাল ফরমেট ব্যবহার করা হয়।

সিক্যাম (SECAM )
অ্যানালগ ভিডিও স্ট্যান্ডার্ডের ক্ষেত্রে সিক্যাম (SECAM ) আসলে বহিস্কৃত একটি ফরমেট। এই ফরমেটের আবিস্কার করা হয় ফ্রান্সে। সিক্যাম এনটিএসসির ক্ষেত্রে প্রভাবশালী হলেও, পালের ক্ষেত্রে খুব একটা নয়। আর তাই যেসব দেশ সিক্যাম ফরমেট বেছে নিয়েছিল, তারা পালে পরিবর্তিত হচ্ছে, অনেক দেশ আবার ব্রডকাস্টের জন্য দুই ধরণের সিস্টেমই রাখছে।

পালের মতই এটি ৬২৫ লাইন, ৫০ ফিল্ড অথবা ২৫ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ড ইন্টারল্যাস্ড সিস্টেম ব্যবহার করে। তবে এর কালার কম্পোনেন্ট পাল এবং এনটিএসসির থেকে আলাদা। সিক্যাম বলতে বোঝায়, সিক্যোয়েনসিয়াল কালার উইথ ম্যেমরি। এর ভিন্ন কালার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের জন্য ভিডিও প্রফেশনে এর নাম দেওয়া হয়েছে সামথিং কনট্রেরি টু অ্যামেরিকান মেথড অর্থাৎ অ্যামেরিকান মেথডের চেয়ে ভিন্ন কিছু। যেসব দেশ সিক্যাম সিস্টেম ব্যবহার করে তার মধ্যে রয়েছে, ফ্রান্স, রাশিয়া, ইস্টার্ন ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ।
সিক্যাম সম্পর্কে আরেকটি বিষয় জানিয়ে রাখা উচিৎ- তা হলো, এটি একটি টেলিভিশন ব্রডকাস্ট ট্রান্সমিশন ফরমেট। কিন্তু এটি কোন ডিভিডি প্লেব্যাক ফরমেট নয়।

চালানোর সুবিধার জন্য ডিভিডি সাধারণত এনটিএসসি ও পাল ফরমেটে কোড করা থাকে। তবে যেসব দেশে সিক্যাম ব্যবহার করা হয়, সেসব দেশের ডিভিডিগুলো থাকে পাল ভিডিও ফরমেটে।

অন্যভাবে বলা যায়, যেসব দেশে সিক্যাম ভিডিও ফরমেট ব্যবহার করা হয়, সেসব দেশের মানুষ পাল ফরমেটও ব্যবহার করে, তবে যখন এটি ডিভিডি ভিডিও প্লেব্যাকে আসে। সিক্যাম ফরমেটের যত টেলিভিশন আছে, তার সবগুলোই পাল ফরমেটেও ছবি দেখাতে পারে। যেমন- ডিভিডি প্লেয়ার (DVD player), ভিসিআর (VCR) এবং ডিভিআর (DVR)।

Comment

comments

Comments are closed.