সংবাদ পাঠক। আয় এবং ভবিষ্যৎ । ক্যারিয়ার সাজেশন

0

প্রথাগত ডিগ্রী আর ক্যারিয়ার নির্মাণের চিরাচরিত পথ থেকে আজকাল সরে আসছে অনেক প্রতিভাবান তরুণ। এখন অনেক তরুণ আগ্রহী হচ্ছে ব্যতিক্রমী কোন পথে ক্যারিয়ার গড়তে।  আর ব্যতিক্রমি পথ বলতে প্রথমেই আসে সৃজনশীল পেশার কথা।  যেখানে নিজের যোগ্যতা আর দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়ে তৈরি হবে উন্নত ক্যারিয়ার।  বিভিন্ন সৃজনশীল পেশার মধ্যে এই সময়ে তরুণদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা হচ্ছে গণমাধ্যম।

গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পদে তরুণদের জন্য রয়েছে সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ।  বর্তমান বিশ্বে এই পেশার সামাজিক মর্যাদাও অন্য যে কোন পেশার চেযে বেশি।  প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে যে তিনটি বিষয়ে তরুণদের আগ্রহ বেশি লক্ষ্য করা যায় সেগুলো হলো প্রতিবেদক বা রিপোর্টার, সংবাদ পাঠক ও অনুষ্ঠান উপস্থাপক।  এক সময় এসব পেশায় অনেকে শখের বসে আসলেও  বর্তমান সময়ে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ পেশা হিসেবে স্বীকৃত।  উচ্চ শিক্ষিত মেধাবীরা আসার ফলে বর্তমানে এসব পেশায় যোগ হচ্ছে নিত্যনতুন বৈচিত্রতা।  তরুণদের  মেধা আর উদ্যমতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাই মুখিয়ে থাকে নামি দামি মিডিয়া হাউজগুলো।  ফলে তৈরি হয় নতুন নতুন কাজের সুযোগ।

একসময় ধনী ও অভিজাত পরিবারের সদস্যদের জন্য শখ কিংবা ব্যক্তিগত ইমেজ তৈরির পেশা হিসেবে চিহ্ণিত থাকলেও সংবাদ পাঠ ও উপস্থাপনা দিন দিন পরিপূর্ণ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে।  বিশেষ করে নিত্যনতুন বেসরকারি টিভি ও এফএম রেডিও বৃদ্ধির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য দরকার প্রচুর লোকবল।  চ্যানেলগুলোর নিয়মিত সংবাদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য তরুণদের জন্য কাজের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্ঠি হচ্ছে।  আজকাল অনেক চ্যানেলই ফুলটাইম সংবাদ পাঠক নিয়োগ দিচ্ছে।  শিক্ষিত, স্মার্ট ও মেধাবুী তরুণদের জন্য তাই তৈরি হচ্ছে কাজের ক্ষেত্র। এ পদে আর্থিক সুযোগ সুবিধাও বেশ ভালো।  শুরুতে ২০/২২ হাজারে শুরু হলেও কোন কোন সিনিয়র সংবাদ পাঠক ৪০-৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পান।  এছাড়া পার্টটাইম হিসেবে সংবাদ পাঠক হওয়ারও সুযোগ রয়েছে।  পার্টটাইম সংবাদ পাঠকদের শিডিউল ভিত্তিক পেমেন্ট করা হয়।

যে কোন পেশায় যাওযার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা জরুরী একটি বিষয়।  টিভি নিউজ রিপোর্টার, সংবাদ পাঠক কিংবা উপস্থাপক হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত ব্যক্তিগত দক্ষতা থাকা আবশ্যক।  এর মধ্যে প্রথমেই আসে স্মার্টনেস ও সুন্দর বাচনভঙ্গি। বিশেষ করে আজকাল সকল প্রতিষ্ঠান এসব পদে লোক নিয়োগের জন্য প্রথমত স্মার্ট ও ব্যক্তিত্বপূর্ণ চেহারার লোকদের অগ্রাধিকার দেয়।  কোন কোন ক্ষেত্রে সুদর্শনরাও এই সুবিধা ভোগ করে। এরই সাথে সুন্দর বাচনভঙ্গি, স্পষ্ট ও জোরালো উচ্চারণ, উপস্থিত বুদ্ধি, সমসাময়িক বিষয়ের উপর সাধারণ জ্ঞান থাকা অতি জরুরী।  একজন রিপোর্টার, সংবাদ পাঠক, কিংবা উপস্থাপককের মাধ্যমে দর্শকরা ঐ চ্যানেলের সম্পকর্েু ধারণা লাভ করে।  তাই একটি চ্যানেলের প্রতিনিধিত্বকারীকে অবশ্যই দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে নিজেকে তৈরি করতে হবে।  আবৃত্তি বা অভিনয়ের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে তা এই পেশায় কাজে লাগতে পারে।

ধন্যবাদ আমাদের সাথে থাকার জন্য।  আমাদের কমেন্ট করুন , লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং আগামি ভিডিওতে আমাদের সাথে থাকতে অবস্যই সাবস্ক্রাইব করুন এখনি।  ভালো থাকুন, সৃষ্টিশীল থাকুন আর নিজের মনমত পেশায় নিজেকে গড়ে তুলুন।

Comment

comments

Comments are closed.